Header Ads

পর্যটন স্বর্গ গোয়া


মহাভারতের মানচিত্রের ছোট্ট একটি শহর গোয়া। সমুদ্রের একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে এই রাজ্য। সৈকত, গির্জা, মন্দির ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যের জন্য গোয়ার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ঠিক তেমনি পর্তুগিজ উপনিবেশ এবং গোয়ার স্থানীয় সংস্কৃতিও ভারতবর্ষ তো বটেই গোটা বিশ্ব থেকে আলাদা। নীল সমুদ্রপাড়ে সবুজ নারিকেল গাছের সারি, রৌদ্রদীপ্ত সোনালি সৈকত, খাড়া পর্বত থেকে নেমে আসা নদীপথ ও ঝরনা এমনকি লাল পাহাড়ের গা ঘেঁষা গোয়া সারা বিশ্বের পর্যটকদের স্বর্গ।

গোয়া থেকে আবার পানাজি শহরটা বেশি দূরে নয়। পানাজিতে বহুকাল ধরে বহন করে চলেছে প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন। এখানে পর্তুগিজ উপনিবেশের প্রাচীন স্থাপত্য, গির্জা, মন্দির ও মিউজিয়াম রয়েছে। গোয়ায় সকালের মিষ্টি রোদ নারিকেল গাছের ফাঁক দিয়ে হেসে বেড়ায়। সাগরের পাশেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী স্থান ডোনাপাওলা। পর্তুগিজ উপনিবেশের একটি নিদর্শন। টিলার ওপর থেকে আরব সাগরের রূপ-অপরূপ দেখতে পাবেন। ওপর থেকে চোখ পড়বে মান্ডবী আর জহুরী নদীর সঙ্গে সাগরের মেলবন্ধন। গোয়ার সাগরের নীল জলে খুঁজে পাবেন বাহারি রঙের ডিঙা বা ছোট্ট নৌকা। এ ডিঙায় করে মন পবনের তেপান্তরে ঘুরে আসতে পারবেন। গোয়ায় সবকিছুই বাঁধনহারা।

সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় নারিকেল গাছ আর সমুদ্রের দারুণ মিল। ছোট্ট এই রাজ্যজুড়ে পর্তুগিজ স্থাপত্যের ছোঁয়া। স্বপ্নের মতো সি-বিচ, নীল নীল আকাশ, ততোধিক নীল সমুদ্রের জল, তার থেকে বেশি নীল রং ঘোরলাগা চোখে, লেগে থাকা স্বপ্ন। গোয়া আর সি-বিচের ভিতরে-বাইরে নারিকেল গাছের ফাঁকে আনকোরা ভঙ্গিতে দেখা যাবে সুমদ্রসৈকত। রাতে জ্বলজ্বল করে বিচ-লাগোয়া রেস্তোরাঁগুলোর আলো। সুর যখন সুরে মেলে আর তা যদি হয় স্বর্গের বিচ গোয়ায়, তখন স্বপ্নে ঘোর কাটে। ভারতের বৃহত্তম সি-বিচ কালাঙ্গুটে। ওয়াটার স্কুটার, প্যারা গ্লাইডার, প্যারাসেইলিং, রঙিন ফানুসের মাধ্যমে চলে ভরপুর মস্তি। গোয়ার আঞ্জুনা ও কালাঙ্গুটের বিচে বিদেশিদের অর্ধনগ্ন সানবাথ ও স্নান। পাহাড় আর সারি সারি নারিকেল গাছ লাগামহীন ঢেউ মনটাকে রঙিন করে তোলে। এ ছাড়া ছোট ছোট রংবেরঙের ছাওয়া কুঁড়েঘর। বিদেশিদের বিশ্রামাগারও বলা যায়, প্রয়োজনে রাতযাপনও করতে পারবেন। কোলভা, কালাঙ্গুটে, ভাগোন্ডার, আরামবোল, আঞ্জুনা ছাড়াও তালপোনা, পালোলেম, আগোন্ডা, বেনোলিম, বগমালো বিচগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন।

কীভাবে যাবেন
বিমানে করে দিল্লি হয়ে গোয়া যেতে পারেন। এ ছাড়া কলকাতা থেকে অমরাবতী এক্সপ্রেসে সরাসরি গোয়া যেতে পারবেন। সময় লাগবে প্রায় ৪০ ঘণ্টা।

আবাসন ও রেস্তোরাঁ
পর্যটনসেরা ভারতের এই ছোট্ট নগরী বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। পরিচ্ছন্ন নগরী, উত্তাল সমুদ্রের আশপাশে আর লাল পাহাড়ের গোয়ায় রয়েছে অসংখ্য হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। রেস্তোরাঁগুলোয় ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে দেশ-বিদেশি মজার মজার খাবার।

No comments