Header Ads

মেঘ পাহাড়ি সীতাকুণ্ড।


এখানে আকাশ, পাহাড় ও ঝরনা মিলে একাকার। দূর থেকে হাতছানি দেয় নীল সমুদ্র। বাদলা দিনে ভোল পাল্টে হয়ে ওঠে আরও অপরূপ। অপরূপ স্থানটি মেঘ পাহাড়ি সীতাকুণ্ড। সীতাকুণ্ডের রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি নজরুল লিখেছিলেন,
আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায়।

প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রাচীনকালে এখানে মহামুনি ভার্গব বসবাস করতেন। অযোদ্ধার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এখানে এসেছিলেন। তারা আসবেন জানতে পেরে ভার্গব তাদের স্নানের জন্য তিনটি কুণ্ড সৃষ্টি করেন এবং রামচন্দ্রের এখানে ভ্রমণকালে তার স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে স্নান করেন। প্রচলিত এ গল্পটিই সীতাকুণ্ড নামের কারণ বলে মনে করা হয়।

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় যেন আকাশে গিয়ে ঠেকেছে। হেঁটে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়ার মজাই অন্যরকম। সবুজ ঘন জঙ্গল আর পাখির কলতান হারিয়ে নিয়ে যাবে অন্য এক রাজ্যে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়ার পথে হিন্দুদের কিছু ধর্মীয় স্থাপনা চোখে পড়বে। এ এলাকা বিভিন্ন ধরনের গাছ, বুনোফুল ও গুল্মলতায় পরিপূর্ণ। কিছু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষও বসবাস করেন, যারা ত্রিপুরা নামে পরিচিত এবং এখানে তাদের কিছু গ্রামও আছে।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়ার পথে বেশকিছু ঝরনার দেখা মিলবে। এ স্থান থেকেই পাহাড়ে ওঠার পথ বিভক্ত হয়ে গেছে। বর্ষায় এর রূপবৈচিত্র্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সীতাকুণ্ডের দক্ষিণে সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন। ইকো পার্কের মূল আকর্ষণ প্রাকৃতিক ঝরনা ও দুর্লভ প্রজাতির হাজারো গাছ। তা ছাড়া পার্কের চূড়া থেকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ দেখা যায়। পার্কে বিকালে বেড়াতে আসা পর্যটকের বেশির ভাগই পার্ক থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে এই সমুদ্রে সূর্যাস্ত দেখতে যান। আর এক ঢিলে দুই পাখি পাহাড় ও সমুদ্র দর্শন। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথের বাঁকের সবুজ অরণ্যে মন হারান অনেকেই। এখানে রয়েছে দুর্লভ প্রজাতির গোলাপবাগান, অর্কিড হাউস, গ্রিন হাউস, পদ্মপুকুর, ভ্যালি ব্রিজ, প্রাকৃতিক লেক, নয়নাভিরাম ঝরনা ও হাজারো পাখির কলতান। ভাগ্য ভালো হলে দেখা পেতে পারেন বানর, নানারকম মায়াহরিণসহ কয়েক প্রকার বন্যপ্রাণীও। সীতাকুণ্ডে সহস্রধারা ও সুপ্তধারা নামে দুটি জলপ্রপাত রয়েছে। মিরসরাই অংশে রয়েছে খৈয়াছড়া, হরিণমারা, হাঁটুভাঙা, নাপিত্তাছড়া, বাঘবিয়ানী, বোয়ালিয়া, অমরমাণিক্যসহ আরও অনেক ঝরনা ও জলপ্রপাত।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি সীতাকুণ্ড। ট্রেন বা বিমানে যেতে চাইলে চট্টগ্রাম হয়ে যেতে হবে। আর সীতাকুণ্ডে ভ্রমণের জন্য সিএনজি বা মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে নেওয়া ভালো।

আবাসন ও রেস্তোরা।
সীতাকুণ্ডে আবাসিক হোটেল রয়েছে একটি। এটি বাজারের ঠিক পাশেই অবস্থিত। এ ছাড়া ইকো পার্কের রেস্ট হাউসেও থাকতে পারেন। প্রায় সব ধরনের খাবারের দোকান আছে বলে খাওয়ার কোনো চিন্তা নেই।

No comments