দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দানব ইয়ামাতো
বিশ্বের পঞ্চম শক্তিধর নেভি ফোর্স রয়েছে জাপানের। জাপানের রয়েছে মেরিন সেলফ ডিফেন্স ফোর্স। তাদের হাতে রয়েছে ১১৪ টি রণতরী। প্রতিটি কোরে রয়েছে ডেস্ট্রয়ার। এছাড়া শিপ। সাবমেরিন শক্তিতে জাপান বিশ্বসেরা।
ইয়ামাতো লম্বায় ছিলো ৮৬২ ফুট ১০ ইঞ্চি এটি ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার পথ ছুটতে পারতো। সৈনিক সংখ্যা ছিল ২৫০০ জন। সাতটি যুদ্ধজাহাজ ও দুতি বিমানের রানওয়ে ছিল এতে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সমুদ্রে নেমেছিলো জাপানের রণতরী ইয়ামাতো। এর নাম রাখা হয়েছে জাপানের এক প্রাচীন শহরের নামে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের একমাত্র গর্ব ছিলো এটি। সবচেয়ে বড় এই যুদ্ধজাহাজকে বলা হতো সমুদ্রের দানব। মুশাই ছিলো ইয়ামাতোর সহযোগী যুদ্ধজাহাজ। সমুদ্রে এই দুজনের সাথে কেউ সাহস দেখাতে আসতো না। জানা গেছে ১৯৩৭ সালে এটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। কিন্তু সারাবিশ্ব একে চেনে ১৯৪০ সালে। এটি কমিশন লাভ করে পরের বছর ১৯৪১ সালে।
ভয়ানক হাতিয়ার দিয়ে সাজানো ছিলো এই যুদ্ধজাহাজ। এর ওজন ছিল ৭২৮০০ টন। উপরের অংশে ছিল ১৮.১ ইঞ্চির ৯ টি মেশিনগান। জাপান এটাকে হুমকি হিসেবে ব্যবহার করতো। যুক্তরাষ্ট্র এর সাথে কখনো মোকাবিলা করতে সাহস দেখায়নি।
১৯৪৪ সালে এটা আমেরিকার রণতরীর দিকে বন্দুক তাক করেছিল। কিন্তু আমেরিকা এর কোন জবাব দেয়নি। কিন্তু ওই বছর ফিলিপাইন নিয়ে টানাটানি শুরু করে। জাপান এটাকে প্রতিরোধ করতে ইয়ামাতোকে সামনে এনে দাড় করায়। এই সমুদ্র যুদ্ধের নাম ছিল ব্যাটেল অব লেয়াট গলফ। এই যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া আমেরিকা যৌথভাবে জাপানকে নিয়ন্ত্রণ করে।
১৯৪৪ সালের ওই যুদ্ধে ইয়ামাতোর অনেক ক্ষতি হয়। পরে জ্বালানি সংকটে পড়ে অনেকটা অকেজো হয়ে পড়ে। ফিরে আসার কথা থাকলেও মার্কিন সাবমেরিন দ্বারা আবার আক্রার হয়। তখত যুদ্ধ ছাড়া আর কোন পথ ছিলোনা ইয়ামাতোর। যুদ্ধরত অবস্থায় এটি তলিয়ে যায়।
ইয়ামাতো ধংস হয়েছিলো ৭ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে।
Post a Comment